Monday, 6 August 2018

কর্মের সার্থকতা

কর্মের সার্থকতা

কর্মের সার্থকতা: এই সংসার হচ্ছে কর্মের চাষ আবাদ, মানুষ এখানে কর্মের চাষ আবাদ করতে বাধ্য হয় । কৃষক ক্ষেতে যে ধরনের বীজ বপন করে, শেষে সেইরকমই ফসল তাকে কাটতে হয় । সেরকমই মানুষও যে যেরকম কর্ম করে তাকে সেরকমেরই ফল ভোগ  করতে বাধ্য হতে হয়  । নিজের সেই সমস্ত কৃত কর্মের ফসল কাটবার জন্য তাকে বার বার বিভিন্ন যোনিতে জন্ম নিতে হয় । এটাই হল জন্ম-মরণের বন্ধন যা মানুষকে তার লক্ষ্য পরম ধামে পৌঁছাতে দেয় না । মানুষ এই কর্ম-বন্ধনের কারণেই পথভ্রষ্ট হতে থাকে ।কর্ম-বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষের পক্ষে কর্ম ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন –

ন হি কশ্চিত্ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃত্ ।
কার্যতে হ্যবশঃ কর্ম  সর্বঃ প্রকৃতিজৈগুণৈঃ ।।
                                                          (গীতা-৩/৫)

মানুষ কর্ম ছাড়া একমুহূর্তও থাকতে পারে না । প্রাকৃতিক গুণের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে কর্ম করে । কিন্তু মানুষের এটা ভেবে দেখা উচিৎ, কর্মপথে চলতে চলতে সে কীরূপে জীবন সফল বানাবে । অনেকেই বলে থাকে, শুভকর্ম কর,  মিথ্যা কথা বলিও না,  চুরি করিও না ।

কিন্তু কেবলমাত্র ভালো কাজের দ্বারাই জীবনের কল্যাণ কী করে সম্ভব ? একবার প্রভু শ্রীরাম ও লক্ষ্মণ দুজনে একসাথে বসে ছিলেন । হঠাৎ প্রভু শ্রীরাম হেঁসে ফেলেন ।  লক্ষ্মণ আশ্চর্য  হয়ে শ্রীরামের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন একা একা কি কারণে হাঁসছেন ? তখন প্রভু শ্রীরাম বললেন দেখ সামনে একটি পোকা গাছে চড়ার চেষ্টা করছে এবং বার বার নীচে পড়ে যাচ্ছে । একথা শুনে লক্ষ্মণ বললেন প্রভু এতে হাঁসার মতো কী আছে কৃপা করে আমায় বলুন । তখন প্রভু শ্রীরাম বললেন, লক্ষ্মণ তুমি যে পোকাটিকে দেখছ তার মধ্যে যে চৈতন্য শক্তি রয়েছে অর্থাৎ সেই জীবাত্মা আঠারো বার স্বর্গের রাজা ইন্দ্রের গদিতে বসেছিল । কিন্তু তা সত্ত্বেও সে চুরাশী লক্ষ যোনীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে । অর্থাৎ সেটির মানব শরীরে যখন জন্ম হয়, সে ভাল কাজ করে, অশ্বমেধ যজ্ঞ করে, স্বর্গের রাজা ইন্দ্রের গদিও পেয়ে যায় । সে স্বর্গের সুখ, ঐশ্বর্যও ভোগ করে । তারপর ভোগকাল শেষ হলে পুনরায়  চুরাশী লক্ষ যোনীতে ঘুরে বেড়ায় । এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, শুধুমাত্র ভাল কর্মের দ্বারাই জীবনের কল্যাণ সম্ভব নয় । রামায়ণে বলা হয়েছে –

এহি তন কর ফল বিষয় ন ভাঈ ।
স্বর্গউ স্বল্প অন্ত দুঃখদাঈ ।
নর তনু পাই বিষয়ঁ মন দেহীঁ ।
পলটি শুধা তে সঠ বিষ লেহীঁ ।।
                                              (রা. চ. মা. – ৭/৪৪/১)

এটা তো সত্যি, মানব শরীর পাওয়ার পর বিষয় বিকারে না জড়িয়ে ভাল কর্ম করলে ফল হিসেবে স্বর্গ পাওয়া যায় । কিন্তু স্বর্গও তো চিরস্থায়ী নয় । পুণ্য কর্মানুসারে স্বর্গের সুখ, ঐশ্বর্য ভোগ করার পর পুনরায় আবাগমনের বন্ধনে চলে যেতে বাধ্য হতে হয় । রামায়ণে বলা হয়েছে, মানব তন প্রাপ্তির পরেও যে ব্যক্তি  বিষয়-বিকারের মধ্যেই ডুবে থাকে, সে এই জীবনের মহান প্রাপ্তি অমৃতের বদলে বিষপান করছে । গুরবাণীতে শ্রীঅর্জুনদেব বলেছেন –

অনিক করম করি থাকিআ ভাই ফিরি ফিরি বন্ধন পাই ।
                                                     (গুরবাণী ৫/৬০৮)

জীব বিভিন্ন রকমের কর্ম করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু এই জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে রেহাই বা মুক্তি পায় না । কিন্তু এরকমও নয় যে ভালো কর্মের ফল সে পাবে না । ভালো কর্মের দ্বারাই কল্যাণ সম্ভব । কিন্তু কী ভাবে ? এটাই তো জানা দরকার ।

নহুষ নামে এক রাজা ছিলেন । তিনি তার জীবন কালে একশত বার অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন । তিনি মানব শরীর ত্যাগ করে দেবতা হয়ে স্বর্গে পৌঁছালেন ।একবার ইন্দ্র রাজাকে ব্রহ্মহত্যার কারণে গা ঢাকা দিতে হয়েছিলো । তখন স্বর্গের সিংহাসন খালি হয়ে পড়ে । স্বর্গের সিংহাসন খালি দেখে সমস্ত দেবতাগণ এক আলোচনা সভার আয়োজন করলেন । তখন গুরু বৃহস্পতি বিচার বিবেচনা করে বললেন, দেবতাদের মধ্যে এই সময় নহুষই একমাত্র এরকম রাজা যিনি একশত অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন । এইজন্য এই সময় তিনিই রাজা হবার যোগ্য । এরকম বিচার বিবেচনা করে তাঁকেই সিংহাসনে বসালেন । স্বর্গের রাজ্য পেয়ে নহুষ নিজের ইচ্ছামতো যা খুশী তাই করতে লাগলো । সে একদিন স্বর্গের রাণী ইন্দ্রাণীকে নিজের স্ত্রীরূপে পাওয়ার জন্য খবর পাঠালেন । এরকম খবর শুনে ভয় পেয়ে রাণী গুরু বৃহস্পতির কাছে পৌঁছালেন । সমস্ত কথা শুনে গুরু বৃহস্পতি রাণীকে  বললেন, তুমি নহুষের কাছে এই খবর পাঠাও, সে যদি তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সপ্তর্ষিদের দ্বারা বাহিত পাল্কীতে চড়ে তোমাকে নিতে আসে তাহলেই তুমি তাঁকে পতিরূপে গ্রহণ করবে, অন্যথায় নয় । যখন এ খবর নহুষের কাছে পৌঁছাল তখন তিনি বিচার বিমর্ষ না করেই সপ্তর্ষিদের সেরকমই করবার আদেশ দিলেন ।
সপ্তর্ষিগণ তাদের নির্মল স্বভাবের কারণে নহুষের পাল্কী নিয়ে ইন্দ্রাণীর মহলের দিকে রওনা দিলেন । এদিকে নহুষ কাম বাসনায় অত্যধিক গ্রস্ত হয়ে পড়েছিল কিন্তু সপ্তর্ষিগণ অত্যন্ত ধীরে ধীরে পথ চলছিল । নহুষ পাল্কীতে পদাঘাত করে আদেশ দিয়ে বলে ওঠেন সর্প - সর্প অর্থাৎ শীঘ্র চলো, শীঘ্র চলো । তখন অগস্ত্য ঋষি রেগে গিয়ে বললেন – মূর্খ ! কাম বাসনায় অন্ধ হয়ে উচিৎ অনুচিত সবকিছু ভুলে বসেছ । অতএব  যাও এখুনি সর্প যোনীতে তোর জন্ম হোক ! তাই নহুষকে স্বর্গের রাজ্য ত্যাগ করে সর্প যোনীতে চলে যেতে হয়েছিল । সুতরাং এখানে ভাবার বিষয় হল, মানুষ ভালো কর্ম তো করে কিন্তু সেই কর্মের দ্বারা সার্থকতা কিভাবে অর্জন করবে ? এটাই জানা দরকার । তাই তো বলা হয়েছে –

রহণু ন পাবহি সুরি নর দেবা ।
ঊঠি সিধারে করি মুনি জন সেবা ।
                                                    (গুরবাণী -৫/৭৪০)

দেবতাই বল আর মানুষেই বল কারোর জীবন স্থির নয় ।  জীবনের উদ্দেশ্যকে তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একমাত্র সন্ত ও মহাপুরুষের চরণ ধূলিই কল্যাণকারী হতে পারে । কর্ম তখনিই সার্থক হয় যখন তা পরমাত্মার চরণে সমর্পিত হয় । 

একবার রাজা বলী যখন শততম অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে যাচ্ছিলেন তখন খবর আসে, তার দ্বারে একজন ব্রাহ্মণ বালক ভিক্ষা নিতে এসেছে । রাজা বলী বলল, ব্রাহ্মণ বালক যা চায় তা তাকে দিয়ে দাও । তখন কর্মচারীগণ বলল, রাজামশাই এই ব্রাহ্মণ বালক আপনার হাতেই ভিক্ষা নিতে চায় । তখন বলী বলেন যদি সে বালক হয় তাহলে তার জিদ ধরাটাই স্বাভাবিক ।

তাই রাজা বলী নিজে ব্রাহ্মণ বালক বটু কুমারের কাছে পৌঁছলেন । তাঁকে প্রণাম করে  বিনতির সঙ্গে বললেন হে ব্রাহ্মণ কুমার ! তোমার যা কিছু চাই  দেবার জন্য আমায় আদেশ কর । সেই বটুকুমার তখন বলল রাজামহাশই আমার কেবলমাত্র আড়াই পা জমি দরকার । একথা শুনে রাজা বলী বিস্মিত হয়ে বলেন, কেবল মাত্র আড়াই পা জমি ! রাজা বলী তৎক্ষণাৎ সঙ্কল্প দেবার জন্য জল চাইলেন । ঋষি শুক্রাচার্য চিনে ফেলেছিলেন যে আসলে স্বয়ং বিষ্ণুই বটু কুমারের রূপে রাজা বলীর সম্মুখে উপস্থিত হয়েছেন । তখন তিনি রাজা বলীকে বললেন, “বলী ! এই বালককে বচন দিও না, কারণ এই বালক ব্রাহ্মণ বালক নয় বরং স্বয়ং বিষ্ণুই বটু কুমার রূপে এসেছেন ।” রাজা বললেন, ইনি কী সেই বিষ্ণু যার দর্শন পাওয়ার জন্য যোগী, মুনি, ঋষিগণ বছরের পর বছর ধরে তপস্যা করেন এবং যার দর্শন অনেক বছরের তপস্যার পরেও সহজে পাওয়া যায় না ।  ঋষি শুক্রাচার্য উত্তরে বললেন, “হ্যাঁ, ইনি সেই বিষ্ণুই ।” তখন বলী বলল যদি সে বটুকুমার না হয়ে স্বয়ং বিষ্ণুই হয়, যার ধ্যান যোগী, ঋষি এবং তপস্বীগণ করে থাকেন, তাহলে আমি তাকে ভিক্ষা দিতে কিরূপে অস্বীকার করতে পারি ? শুক্রাচার্য তখন রাজাকে বলল তুমি যদি অস্বীকার না করতে পারো, তাহলে তোমাকে পাপের ভাগীদার হতে হবে । কারণ তোমার বচন দেওয়ার পর সে তার নিজের শরীরকে বৃদ্ধি করে এক পয়ের দ্বারা সারা পৃথিবীকে মেপে নেবে এবং দ্বিতীয় পায়ের দ্বারা সারা ব্রহ্মাণ্ডকে মেপে নেবে । তখন তৃতীয় পায়ের জন্য তোমার কাছে দেবার মতো কোনও জায়গা বেঁচে থাকবে না । সে কারণে তুমি পাপের ভাগীদার হয়ে থাকবে ।
কিন্তু রাজা বলী বলল, যদি বটু কুমার সত্যি সত্যিই ভগবান বিষ্ণু হয়ে থাকেন তাহলে আমি তাকে অস্বীকার করতে পারি না । শুক্রাচার্য রাগে বশীভূত হয়ে রাজা বলীকে অভিশাপ দিয়ে বললেন, তুই যে সম্পত্তির অহংকারে আমার কথার অস্বীকার করলি কিছুক্ষণের মধ্যেই তুই সেই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবি । কিন্তু রাজা বলী তাতে এতটুকুও বিচলিত হলেন না । তিনি বটু কুমারকে বচন দিয়ে বললেন, আপনার যেখানে আড়াই পা ভূমি দরকার আপনি মেপে নিন ।  আমি আপনার দ্বারা মাপা আড়াই পা জমি দেবার জন্য কথা দিলাম । তখন বটু কুমার তার নিজের শরীর বাড়ানো শুরু করল এবং প্রথম এক পা দিয়ে সারা পৃথিবীটাকে মেপে নিলেন এবং দ্বিতীয় পা দিয়ে সারা ব্রহ্মাণ্ড ।

তারপর বটু কুমার বলীকে বলল রাজামশাই তোমার সমস্ত সম্পত্তি তো আমি দুই পা দিয়েই মেপে নিলাম । এখন আমি আমার তৃতীয় পা-টিকে কোথায় রাখবো ? তখন বলী বলল হে ভগবান ! তৃতীয় পা আপনি আমার নাকের উপরে রাখুন । নাক হল অহংকারের প্রতীক । আমি নিজেকে আপনার চরণে সমর্পিত করে দিলাম । এভাবে রাজা বলী তার বচন পূর্ণ করলেন । তখন প্রভু রাজাবলীকে বিষ্ণু রূপে দর্শন দিয়ে বললেন, তুমি রাজ্য পাওয়ার আশায় যজ্ঞ করছিলে তাই আমি তোমাকে পাতালের রাজ্য দিলাম । আমি তোমার ভক্তিতে খুব খুশি হয়েছি । তুমি সব কিছু জানার পরেও নিজের বচন ভঙ্গ করনি । তাই তুমি যা বর চাওয়ার চেয়ে নাও । যা বর চাইবে আমি তাই দেব । বলী বললেন, পাতালের রাজ্য ভোগ করার সময় আমার এটাই প্রার্থনা, আমার প্রত্যেক দ্বারে শুধু যেন তোমারই দর্শন হয় । এতে ভগবানকে বচন বদ্ধ হয়ে রাজা বলীর জন্য প্রত্যেক দ্বারে পাহারা দ্বারের মত দাঁড়িয়ে থেকে দর্শন দিতে হয়েছে । রাজা বলী নিজের প্রেম ডোরে প্রভুকে বেঁধে ফেলেছিলেন । এর দ্বারা এটা পরিস্কার হয়ে যায়, কর্মের সার্থকতা তখনই, যখন তা প্রভুর চরণে সমর্পণ করে দেওয়া হয় । ঠিক এই কথাই উপনিষদেও বলা হয়েছে  –

ন চক্ষুষা গৃহ্যতে নাপি বাচা নান্যৈর্দেবৈস্তপসা কর্মণা বা।
                                জ্ঞানপ্রসাদেন বিশুদ্ধসত্ব্স্ততস্তু তং পশ্যতে নিষ্কলং ধ্যায়মানঃ।।                                                                                                                       (মুণ্ডক – ৩/১/৮)

মুণ্ডকোপনিষদে বলা হয়েছে, প্রভু কে না তো এই দুই চোখের দ্বারা দেখা যেতে পারে, আর না তো কেবল বানীর কথাগুলি শুনে অথবা কোন ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রভুকে জানা যেতে পারে । কারণ প্রভু হলেন সমস্ত ইন্দ্রিয়ের(পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় এবং পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ের) উপরে, এজন্যই তাঁকে ইন্দ্রিয়ের অগম বা অগোচর বলা হয় । ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রভুকে প্রভুকে জানা কখনোই সম্ভব নয় । বিভিন্ন রকমের কর্ম-কাণ্ডের দ্বারাও প্রভুর প্রাপ্তি হতে পারে না । যখন পূর্ণ-গুরুর কৃপা দ্বারা জ্ঞান প্রাপ্তি হয়, অন্তর্দৃষ্টি খুলে, তখনই মানুষ নিজের অন্তর্জগতে অন্য কোনও প্রকার চাওয়া পাওয়া না থাকার পরে নিষ্কলঙ্ক ব্রহ্মের ধ্যান করতে করতে প্রভুর দর্শন করে । এইভাবে যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে দর্শন দেন, সেই দিব্য নেত্র প্রদান(ত্রিনেত্র) করেন, যার দ্বারা অর্জুন ভগবানের অলৌকিক রূপের দর্শন করছিলেন সেসময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন –

নাহং বেদৈর্ন তপসা ন দানেন ন চেজ্যয়া ।
শাক্য এবংবিধো দ্রষ্টুং দৃষ্টবানসি মাং যথা  ।।
                                                   (গীতা – ১১/৫৩)

হে অর্জুন ! তুমি এখন আমার যে স্বরূপকে দেখলে সেই স্বরূপে আমায় না তো বেদ অধ্যয়নের দ্বারা পাওয়া যায়, আর না তো তপস্যার দ্বারা, না দান দক্ষিণাদির দ্বারা, কিমবা যজ্ঞ ইত্যাদির দ্বারা আমায় এই রূপে দেখা যেতে পারে ।

কর্মের সার্থকতা নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেন, এসকল কর্মের দ্বারা আমায় প্রাপ্ত করা যেতে পারে না । তাহলে আমরা কিভাবে এসব বাহ্যিক কর্ম কাণ্ডের দ্বারা প্রভু প্রাপ্তির কথা বলতে পারি । আশ্চর্যের বিষয় হল এই যে আজকাল অনেক বড়বড় আচার্য, গ্রন্থ পাঠক, সন্ত ও মহাত্মাগণ মানুষকে সেইসব বাহ্যিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছেন যে যেসকল কর্মক্রিয়া সম্বন্ধে ধর্মগ্রন্থে প্রভুর অবতার-গনের বাণী রচিত হয়েছে এবং তার মধ্যেই একথা স্পষ্ট-রূপে বলাও হয়েছে যে যখন-যখন পরমাত্মা মানবরূপে অবারিত হয়েছেন, তা কেবল এজন্যই যাতে সকলেই সেই শাশ্বত বা সনাতন কর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজ-নিজ জীবনের কল্যাণ করে । ধর্ম গ্রন্থের অনেক জায়গাতেই আমাদের জীবনের বাস্তবিক সত্যতার সম্বন্ধে পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যায় । ভৌতিক জগতের নশ্বর বস্তুসমূহ থেকে মনোযোগ সরিয়ে আমাদের হৃদয় মাঝে অবস্থিত সচ্চিদানন্দের প্রাপ্তির জন্য সেই শাশ্বত কর্মকে জানা অবশ্যই দরকার । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন –

যস্যাত্মবুদ্ধিঃ কুণতে ত্রিধাতুকে স্বধীঃ কলত্রাদিষু ভৌম ইজ্যধীঃ ।
যত্তীর্থবুদ্ধিঃ সলীলে ন কর্হিচিজ্জনেষ্বভিজ্ঞেষু স এব গোখরঃ ।।
                                     (শ্রীমদ্ভাগবত -১০/৮৪/১৩)

হে মহাত্মা তথা সভায় উপস্থিত সমস্ত সভাসদগণ ! যে সমস্ত মানুষ বাত, পিত্ত ও কফযুক্ত শবতুল্য শরীরকেই নিজের আত্মা মনে করে, স্ত্রী পুত্রাদিকেই নিজের মনে করে, এবং মাটি, পাথর, কাঠ, পিতল ও সোনা আদিকেই পুজো করতে জানে অর্থাৎ নিজ-নিজ ইষ্টদেব বলে মনে করে এবং কেবল জলময় তীর্থকেই তীর্থস্থান বলে মনে করে থাকে এবং জ্ঞানী মহাপুরুষ-গনের শ্মরণাপন্ন হয় না, তত্ত্ব-জ্ঞানীদেরও শ্মরণেও যায় না, তারা মনুষ্য হয়েও পশুর থেকে নীচে গাধার সমতুল্য, কারণ সন্ত মহাপুরুষই হলেন পরম কল্যাণকারী চৈতন্য তীর্থ স্থান । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট-রূপে মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন কিন্তু অজ্ঞানী মানুষ নিজের ইচ্ছানুসারে বিভিন্ন প্রকারের উপায়(মার্গ) বানিয়ে রেখেছে । অজ্ঞানতা বশত আজ মানুষ এমনভাবে ভ্রমিত হয়ে পড়েছে, যদি কেউ তার আঙ্গুলের দ্বারা ইশারা করে বলে, তুমি খুব ক্লান্ত আর তৃষ্ণার্ত, ওই দেখো সামনে জলভরা কলসি রাখা রয়েছে, যাও সেখান থেকে হাত মুখ ধুয়ে জল পান করে তরতাজা হয়ে এসো  । কোনও ব্যক্তি যদি সেই ইশারার দিকে না গিয়ে আঙ্গুলকেই ধরে নেয় তার মধ্যেই জল খোঁজা শুরু করে এবং সেই আঙ্গুলেরই মহিমাগান গাওয়া শুরু করে তাহলে নিশ্চিত রূপে আমরা তাকে মূর্খই বলব, কারণ নির্দেশিত আঙ্গুলের দিকে রাখা জল পান করলে তবেই তার জলপিপাসা দূর হবে । কেবল আঙ্গুলকে ধরে রেখে কিমবা আঙ্গুলের মহিমা গান করে কখনোই কারো জল পিপাসা দূর হয় নি এবং হবেও না ।

সমস্ত ব্যক্তি সাংসারিক সুখের কামনার কারণে বিভিন্ন উপায়ে দেব-দেবতাগণের পূজা করে থাকে । তাদের উদ্দেশ্যে শ্রীমদ্ভাগবতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই তথ্যটিকেই পরিষ্কার করে বলেছেন,

য়ে মাং ভজন্তি দাম্পত্যে তপস্যা ব্রতচর্যয়া ।
কামাত্মানোপবর্গেসং মোহিতা মম মায়য়া ।। 
                                       (শ্রীমদ্ভাগবত – ১০/৬০/৫২)

শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, আমি মোক্ষের স্বামী এবং মনুষ্য-গনকে ভবসাগর থেকে পার করি । যে সমস্ত পুরুষ কামনা পূর্বক অনেক প্রকারের ব্রত আর তপস্যা পূজা, জপ, তীর্থ ইত্যাদি করে বিষয় সুখের অভিলাষায় আমার পূজা করে, তারা সকলে আমারই সৃষ্টি মায়ায় মোহিত হয়ে রয়েছে এবং তারা হতভাগা । বিষয়ের সুখ তো কুকুর ও শুয়োরের যোনিতেও পাওয়া যেতে পারে কিন্তু অজ্ঞানতার জন্য তারা আমায় ভক্তি করে না ।  সুতরাং এইভাবে মানুষ কর্ম তো করে চলেছে, কিন্তু সে জানে না কোন কর্ম করা উচিত, অজ্ঞানতার কারণে সে নিজেই নিজের ক্ষতি করে চলেছে ।

যেমন একবার এক কাপড়ের ফেরিওয়ালা রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন । তিনি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখেন, তার দোকানে একজন গ্রাহক কাপড় কিনতে এসেছেন । দরদাম হয়ে যাওয়ার পর যখন কাপড়টি ছিঁড়ে দেওয়া শুরু করলেন তখন ঘুমের ঘোরে থাকার কারণে নিজের বিছানার চাদরটিকেই ছিঁড়ে ফেললেন । চাঁদর ছেড়ার শব্দ শুনে তার স্ত্রীর ঘুম ভেঙ্গে যায় । সে তার স্বামীকে দামী চাদরটিকে ছিঁড়তে দেখে রেগে চিৎকার করে উঠলেন, চাদর ছিঁড়ছো কেন ? স্ত্রীর আওয়াজ শুনে সে ব্যক্তি ঘুমের ঘোরেই রেগে গিয়ে স্ত্রীকেই গালাগালি দিয়ে বলে, তোমাকে দোকানে আসতে কে বলেছে ? তখন তার স্ত্রী আরও রেগে গিয়ে তাকে জোরে ধাক্কা মেরে জাগিয়ে দেয় । ঘুম ভাঙলে তখন তিনি বুঝতে পারলেন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে ক্ষতি কার হয়েছে । গুরবাণীতে বলা হয়েছে –

দীন দইয়াল সদা দুখ ভঞ্জন তা সিউ রুচি ন  বড়াই ।
নানক কহত জগত সভ মিথিয়া জিউ সুপনা রৈনাই ।।
                                            (গুরবাণী – ৯/১২৩১)

শ্রী গুরু তেগবাহাদুর বলেন, আমাদের দুঃখকে যিনি সমূলে নাশ করতে পারেন, তিনি হলেন সেই দীন দয়াল প্রভুই । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, আমাদের তাঁর প্রতিই রুচি নেই । এই জগত তো নিদ্রাবস্থায় আসা স্বপ্নের মতো । যেরূপ নিদ্রাবস্থায় আসা স্বপ্ন হল মিথ্যা, ঠিক সেই প্রকার এই জগতও মিথ্যা । তিনি বলেছেন জীব এই শরীরের মোহের মধ্যে আটকা পড়ে থেকে কর্ম করে থাকে ।

জনো বৈ লোক এতস্মিন্নবিদ্যাকামকর্মভিঃ ।
উচ্চাবচাসু গতিষু ন বেদ স্বাং গতিং ভ্রমন্ ।।
                                      (শ্রীমদ্ভাগবত – ১০/২৮/১৩)

এই সংসারে জীব বুদ্ধির বশবর্তী হয়ে অজ্ঞানতার কারণে ভিন্ন-ভিন্ন প্রকারের কামনা মনের মাঝে সাজিয়ে বসে থাকে আর সেগুলির পূর্তির জন্য নানা প্রকারের কর্ম উপাসনা করতে থাকে । তারপর ফলস্বরূপ দেবতা, মনুষ্য, পশু, পক্ষী, পাষাণাদি উঁচু-নিচু যোনীতে ঘুরে বেড়ায় । কিন্তু  নিজের গতি তথা আত্মস্বরূপকে চিনতে পারে না । ভাগবতে বলা হয়েছে –

রহুগণৈতত্তপসা ন য়াতি ন চেজ্জয়া নির্বপণাদ্ গৃহাদ্বা ।
নচ্ছন্দসা নৈব জলাগ্নিসূর্যর্বিনা মহত্পাদরজোভিষেকম্ ।।
                                     (শ্রীমদ্ভাগবত – ৫/১২/১২)

আদি শঙ্করাচার্য্য ও বিবেক চূড়ামণিতে বলেছেন –

ন যোগেনে ন সাঙ্খেন কর্মণা নো ন বিদ্যয়া ।
ব্রম্ভাত্মৈকত্ববোধেন মোক্ষঃ সিধ্যতি নান্যথা ।।
                                          (বিবেকচূড়ামণি - ৫৬)

তিনি বলছেন, না সাংখ্য যোগের দ্বারা, না কর্মের দ্বারা, না অষ্টাঙ্গ যোগের দ্বারা আর না তো বিদ্যার দ্বারা মোক্ষ প্রাপ্তি হতে পারে । যখন সদগুরুর কৃপা দ্বারা ব্রহ্মের বোধ হয় তখনই ব্রহ্ম প্রাপ্তির মার্গ প্রশস্ত হতে পারে, এছাড়া অন্য কোনও সাধনের দ্বারা নয় ।

মানুষের জন্য ধর্মগ্রন্থে পরিষ্কার এরকম অনেক জায়গায় আভাস পাওয়া যায়, আজ আমাদের জীবনের কল্যাণের জন্য প্রয়োজন হল এমন এক সন্তের বা সদগুরুর যিনি আমাদের সত্যকে জানিয়ে দেন । তিনি যখন আমাদের ভিতরেই রয়েছেন, তখন আমরা তাকে বাইরে কেন খুঁজে বেড়াই ? বাহ্যিক কর্মকাণ্ডের দ্বারা কিভাবে তাকে পাওয়া যেতে পারে ? যেমন সাপের ভয় দূর হয় কেবল সাপকে মেরে, অন্য কোনও উপায়ে সাপের ভয় দূর করা যায় না । ঠিক তেমনই সেই কর্মকে চিনতে হবে যার দ্বারা আমরা আমাদের ভিতরের সাপরূপী মনকে সংহার করে জীবনকে সত্যের দিকে অগ্রসর করতে পারি ।
আজকাল দুনিয়ার লোকেদের দ্বারা শোনানো কথায় কান না দিয়ে কীভাবে সেই আত্ম তত্ত্বে পৌঁছানো যেতে পারে সেটাই মানবকে সবার আগে ভেবে দেখা উচিত । সেই কর্মই সার্থক যা আমাদের আত্মজ্ঞান প্রদান করতে  পারে । যদি আত্মজ্ঞান প্রাপ্তি হয়ে যায় তবেই সেই কর্ম সার্থক হতে পারে, আর তখনই আমরা এক নবজাগরণের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো । তা নাহলে আমাদের অবস্থা সেই ভেড়ার থেকে এমন কিছু ভাল বলা যায় না, যারা একের পর এক কুয়োর গর্তে পড়ে যেতে থাকে । পরমাত্মা মানুষকে বুদ্ধি দিয়েছেন ভেবে দেখা বা চিন্তা করে দেখবার জন্য, সার-অসার জানার জন্য, উচিত-অনুচিত নির্ধারণ করার জন্য । এটা দেখবার জন্য নয়, লোকেরা কি করছে, ভেবে দেখা উচিত, আমাদের মহাপুরুষগণ ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মস্থানের দ্বারা আমাদের কি ধরনের আচরণকে ধারণ করার শিক্ষা দিয়েছেন ? সেটা কী, যা জানার পর আর অন্য কিছু জানার বাকি থাকে না । যার সম্বন্ধে কবীর দাস বলেছেন –

কবীরা একৈ জানিয়া তো জানো সব জান ।
জো  ওহ এক ন জানিয়া তো সব হী জান অজান ।।

যিনি সেই এক প্রভুকে জেনে নিয়েছেন, তারই কর্ম হল সার্থক । গীতাতেও বলা হয়েছে –

যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসঙ্কল্পবর্জিতাঃ ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণীং তমাহুঃ পণ্ডিতং বুধাঃ । 
                                                 (গীতা – ৪/১৯)

যিনি সেই জ্ঞানের প্রাপ্তি করে নেন, যে তত্ত্বটি মানুষের হৃদয়েই গোপনে লুকিয়ে রয়েছে, সেটি জেনে নেবার পড়ে হৃদয়ে লুকানো জ্ঞানাগ্নি প্রজ্বলিত হতেই কর্ম সকল তাতে দগ্ধ হওয়া শুরু হয়, বাস্তবে তাকেই পণ্ডিত বলা হয়েছে । যার হৃদয়ে জ্ঞান প্রকট হয়েছে সেই কেবল কর্মকে বুঝতে পারে ।

যখন আমরা সৎসঙ্গের জন্য কোথাও যাই, সেখানে আমরা বেশীরভাগ সময় আচার ব্যবহারেরই শিক্ষা পেয়ে থাকি । কেউ বলে ক্রোধ করো না, কেউ বা লোভ-মোহের নিন্দা করে । ঈর্ষা-দ্বেষের সম্বন্ধে উদাহরণ দেবার লোকের কোন অভাবই নেই । কিন্তু যেসমস্ত বিকার গুলির সমাপ্তির জন্য প্রচার ক্রমাগত হচ্ছে সেইসব বিকারগুলিই আমরা অধিকতর ক্ষেত্রে দেখতে পাই, এর কারণ কী ?

ইতিহাসের পাতায় আমরা অনেক বৃত্তান্ত দেখতে পাই যেখানে মানুষ কিরূপে সদগুনের দ্বারা এক নবজাগরণের সঞ্চার করেছেন । কিন্তু কী কারণে এরকম অদ্বিতীয় বচন, সদগুণ সমূহের সম্পর্কে শুনা এবং পড়ার পরেও সেই সকল সদগুণ ভৌতিক জগতে কোথাও নজরে পড়ে না । চারিদিকে কেবল নিন্দা, ঘৃণা, দ্বেষ, কাম ক্রোধ ইত্যাদিই নজরে পড়ে । যেখানে এধরনের শিক্ষা তো কোন সন্ত মহাপুরুষ বা গুরুজন কখনোই দেন নি । তাহলে কী কারণে যে সমস্ত সদগুনের শিক্ষা আমরা পেয়ে থাকি সেই সমস্ত সদগুণ ও সুবিচার আমাদের নজরে না পড়ে কেবল চারিদিকে দুর্গুণ দুর্বিচারই দেখতে পাই ।

কর্মের সার্থকতা কেবলমাত্র শিক্ষার আধারের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তন অসম্ভব । যেমন অসুস্থ ব্যক্তিকে যদি অসুস্থতা ছেড়ে দিতে বলা হয়, যদি রোগকে ত্যাগ করে দিতে বলা হয় এবং যদি বলা হয়, রোগের ত্যাগ দ্বারাই মানুষকে সুস্থ করা যেতে পারে । কিন্তু কেবলমাত্র এরকম শিক্ষা প্রদানই  অসুস্থতার চিকিৎসা হতে পারে না । কোন ব্যক্তির পেটে ব্যথা হচ্ছে, এখন ডাক্তার যদি তাকে বলে ব্যথাকে পরিত্যাগ কর, এই ব্যথা ভাল নয়, এটা তোমাকে খুব বিপদে ফেলবে । ডাক্তার যদি বলে, রোগকে ত্যাগ করে দাও, তা নাহলে তোমার খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, চলা ফেরা বন্ধ হয়ে যাবে । এখন এখানে একটু ভেবে দেখা দরকার, অসুখকে ত্যাগের শিক্ষা তো ঠিক আছে, এতে খারাপের কিছুই নেই, কিন্তু এইসব ফাঁপা শিক্ষার আধারের উপর ভিত্তি করে রোগ দূর হতে পারে না । বরং রোগীকে ডাক্তারের কথানুসারে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ওষুধ সেবন করলে তবেই রোগ দূর হবে ।

বলার অর্থ হল এই, যেমন রোগের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য শিক্ষার দরকার নেই বরং দরকার হল ঔষধের । ঠিক সেরকমই খারাপ চিন্তা ভাবনাগুলির হাত থেকে অব্যাহতি পাবার জন্য দরকার হল সত্যকে জানার । সদাচার অর্থাৎ সৎ + আচার । সত্যকে না জেনেই আমরা সত্যের প্রতি ব্যবহার কীভাবে করতে পারি ? রোগীকে শিক্ষার দরকার নেই বরং দরকার হয় চিকিৎসার । শিক্ষা কেবল কী করা উচিত বা অনুচিত সেটাই বলতে পারে ।  এরকমই মানবের কল্যাণের জন্য শিক্ষার দরকার নেই বরং দরকার হল দীক্ষার । অতএব আমাদের এমন একজন সন্ত বা সদগুরুর প্রয়োজন যিনি আমাদেরকে সেই সত্যের বোধ করিয়ে দেবেন ।


More Related Topics You may Like to Read


No comments:

Post a Comment