Wednesday, 24 May 2023

ব্রহ্মজ্ঞান কিভাবে পাওয়া যাবে?


ব্রহ্মজ্ঞান


ব্রহ্মজ্ঞান:- আমরা ঈশ্বর সম্বন্ধে জানতে চেষ্টা করি নিম্নলিখিত মাধ্যমে- 

১) আধ্যাত্মিক প্রবচন ও ব্যাখ্যা শুনে, ২) শাস্ত্রগ্রন্থ পরে, ৩) দার্শনিক কথাবার্তা এবং বাদানুবাদের মাধ্যমে। কিন্তু এইরূপ তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতি আত্ম সাক্ষাৎকার করার জন্য পর্যাপ্ত নয়।

ব্রহ্মজ্ঞান কিভাবে পাওয়া যাবে? 

দ্বিতীয়ত, জিজ্ঞাসুকে কোন রকম ভেদাভেদ (জাতি,ভাষা, স্থান) ছাড়াই, প্রবচন কর্তার কাছে নিজ আধ্যাত্মিক আগ্রহ সম্বন্ধে যথার্থ জিজ্ঞাসা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এইরূপ জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণ নিঃশুল্ক। ব্যক্তির অন্তরে পরমাত্মাকে দেখার সঠিক পিপাসা জাগ্রত হয়েছে, প্রবচন কর্তা এইরূপ জিজ্ঞাসুর আধ্যাত্মিক আগ্রহের দৃঢ়তায় নিঃচিন্ত হয়ে যাওয়ার পর, তাকে দিব্য-জ্ঞানে (ব্রহ্মজ্ঞান)  দীক্ষার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।  

ব্রহ্মজ্ঞানের দীক্ষা এবং ধ্যানসাধনা (ধ্যান= ধেয় + ধ্যাতা): 

শাস্ত্রীয় তথ্য আহরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকার কারনে আমরা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ দর্শন থেকে বঞ্চিত থেকে যাই, আমরা দৈনন্দিন জীবনে পরম সত্যকে আত্মসাৎ করতে অসমর্থ হই। এইজন্য সমস্ত পবিত্র শাস্ত্রগ্রন্থ সমূহ তথা সময়ে সময়ে অবতারিত পূর্ণ সন্ত-মহাত্মা ও মুনি-ঋষিরা সর্বদা মানুষকে ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ দর্শনের জন্য প্রেরণা দিয়েছেন।

দিব্য জ্যোতি জাগ্রতি সংস্থানের সংস্থাপক এবং সঞ্চালক শ্রী আশুতোষ মহারাজজীর মার্গদর্শনে শাস্ত্র সন্মত সনাতন জ্ঞান প্রদান করা হয়, যার দ্বারা এক জিজ্ঞাসু দীক্ষা গ্রহণের সময় ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষরূপে তৎক্ষনাৎ নিজের অন্তঃকরনে দর্শন করতে পারে। যখন শ্রী আশুতোষ মহারাজ জী একজন ঈশ্বর অনুসন্ধানকারীকে এই ‘তত্বজ্ঞান’ প্রদান করেন, সেই সময়ই তার তৃতীয় নেত্র খুলে যায় এবং ঈশ্বর ভক্ত নিজের ভিতর দিব্যজ্যোতির (আলোর) দর্শন করেন। অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞান হল পূর্ণ গুরুর কৃপায় একজন জিজ্ঞাসুর অন্তঃকরণে ঈশ্বরের জ্যোতিরূপের তৎক্ষণাৎ দর্শন।

ব্রহ্ম জ্ঞান কোথায় পাওয়া যাবে?

দিব্য জ্যোতি জাগ্রতি সংস্থান থেকে ‘ব্রহ্মজ্ঞানে’ (আত্মজ্ঞানে) দীক্ষিত হওয়ার জন্য- সর্বপ্রথম কোনো জিজ্ঞাসুকে সংস্থানের যেকোনো শাখা অথবা অন্য স্থানে সঞ্চালিত আধ্যাত্মিক প্রবচন অন্তত তিনদিন শুনতে হয় যাতে তিনি পবিত্র শাস্ত্রগ্রন্থ অনুসারে আধ্যাত্মকে সঠিক অর্থে বুঝতে পারেন। 
ধ্যান হল ধ্যাতা আর ধেয়র সমন্বয়। সাধক এখানে ‘ধ্যাতা’। ব্রহ্মজ্ঞানের দ্বারা যখন ভ্রুকুটিতে অবস্থিত তৃতীয়নেত্র খুলে যায়, তখন অন্তর্জগতে পরমাত্মার জ্যোতিরূপের দর্শন হয়। এই জ্যোতিই হলধেয়’। সদগুরুর কৃপায় এই জ্যোতি বা আলো অন্তরঘটে প্রকট করানোই হল ব্রহ্মজ্ঞানের সার কথা। ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্তির পরে সাধক তৃতীয়নেত্রের দ্বারা ঐ আলোর উপর মনকেন্দ্রিত করাই হল ধ্যান প্রক্রিয়ার শুভারম্ভ। অতঃ অন্তরের গভীরতম প্রদেশে ওই পরম-চেতন সত্ত্বার সাথে সংযোগ স্থাপিত করে আত্ম-অনুসন্ধান করাই হল ধ্যানের সনাতন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া দ্বারা ভিতরে সাকারাত্মক শক্তি সঞ্চারিত হয়, যার ভিতর থেকে জন্ম নেয় এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব। 
ব্রহ্মজ্ঞান ধ্যানের এই প্রণালি এবং উদ্দ্যেশ্যকে নিয়ে সংস্থান সময়-সময় দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে সামূহিক ধ্যান শিবিরের আয়োজন করে। আসুন সাংসারিক সমস্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্বাহ করার মাঝেও দিব্য-আলোকের (আত্মজ্ঞানের) প্রশান্তির ঝিলে ডুব লাগাই ও অমূল্য মানব জীবনের লক্ষ্য প্রাপ্ত হই। 
আজ সমাজ থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব লুপ্ত প্রায়। একারনে গুরুদেব ব্রহ্মজ্ঞান দ্বারা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্মাণের দৃঢ় সঙ্কল্পিত, যাতে শ্রেষ্ঠ মানব দ্বারা শ্রেষ্ঠ সমাজ নির্মাণ করা যায়।

More Related Topics You may Like to Read

ব্রহ্মজ্ঞান কি?

2 comments:

  1. আপনি কি ব্রহ্মজ্ঞান পেতে চান? ঈশ্বরকে জানতে অর্থাৎ দেখতে চান? তাহলে অবশ্যই যোগাযোগ করুন উপরের ঠিকানায়। ফোন- ০৯৭৪৯২৫৬৮৭৯

    ReplyDelete
  2. আমাদের পুরা পরীবার ত্রই দিব্যজ্যোতি জাগ্রতী সংস্থানের স্বামীজীদের মাধ্যমে শ্রী শ্রী আশুতোষ মহারাজজীর অশেষ ক্রিপায় ব্রম্মোগ্যান লাভ করে নিজের ও পরিবারের সার্বিক বিকাশ লাভ করুন ৷ জয় মহারাজ জী কি ৷

    ReplyDelete