Dhyan ki? ধ্যান কি ?
ধ্যান = ধেয় + ধ্যাতা : ধ্যান হল ধ্যাতা আর ধেয়র সমন্বয়। সাধক এখানে ‘ধ্যাতা’। একজন পূর্ণ গুরুর কৃপায় প্রাপ্ত ব্রহ্মজ্ঞানের দ্বারা যখন ভ্রুকুটিতে অবস্থিত তৃতীয়নেত্র খুলে যায়, তখন অন্তর্জগতে পরমাত্মার জ্যোতিরূপের দর্শন হয়। এই জ্যোতিই হল ‘ধেয়’। সদগুরুর কৃপায় এই জ্যোতি বা আলো অন্তরঘটে প্রকট করানোই হল ব্রহ্মজ্ঞানের সার কথা। ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্তির পরে সাধকের তৃতীয়নেত্রের দ্বারা ঐ আলোর উপর মনকেন্দ্রিত করাই হল ধ্যান প্রক্রিয়ার শুভারম্ভ। অতঃ অন্তরের গভীরতম প্রদেশে ওই পরম-চেতন সত্ত্বার সাথে সংযোগ স্থাপিত করে আত্ম-অনুসন্ধান করাই হল ধ্যানের সনাতন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া দ্বারা ভিতরে সাকারাত্মক (positive) শক্তি সঞ্চারিত হয়, যার ভিতর থেকে জন্ম নেয় এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব।
ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্তি একজন পূর্ণ ব্রহ্মজ্ঞানী গুরু ছাড়া সম্ভব নয়। এই জ্ঞান বই পড়ে বা ইউটিউব ভিডিও দেখে পাওয়া যায়না অর্থাৎ পূর্ণ গুরু ধারণ আবশ্যক।
পূর্ণ গুরু কিভাবে চিনবেন?
তৎপদং দর্শিতং য়েন তস্মই শ্রী গুরুবে নমঃ ।।
সেই
পরমাত্মা যাকে খণ্ডিত করা যায় না । মণ্ডলাকার অর্থাৎ সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডে সমাহিত
রয়েছেন । ‘চর’ বা ‘অচর’ অর্থাৎ গাছপালা, পশুপক্ষী, সব কিছুর মধ্যে মিলে মিশে
রয়েছেন । সেই পরমাত্মা সৃষ্টির প্রতিটি অণুতে পরমাণুতে বিদ্যমান । বলা হয়েছে
‘তৎপদং দর্শিতং’ আমাদের সেই পরম তত্ত্বের যিনি দর্শন করিয়ে দেন তিনিই হলেন পূর্ণ
সদগুরু । তাঁকেই আমার প্রণাম । অর্থাৎ উনিই পূর্ণ-গুরু যিনি আমাদের হৃদয়ের মাঝেই
সেই পরমাত্মার তত্ত্বরুপ দর্শন করিয়ে দেন । কিন্তু দর্শন কী প্রকারে হবে, এই দুই
নেত্র দ্বারা হতে পারে না ।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন সন্ধি প্রস্তাব নিয়ে
হস্তিনাপুর গিয়েছিলেন, তখন দুর্যোধন সন্ধি প্রস্তাবকে স্বীকার করতে রাজী হন নি ।
শুধু তাই নয় বরং ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বন্দী করতে চান । ঐ সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজের
বিরাট স্বরূপকে প্রকট করেন, তাতে দুর্যোধনের চোখ ধাঁধিয়ে যায় । তিনি তাঁর রূপকে
দেখতেই পান নি এবং শ্রীকৃষ্ণকে মায়াবী বলার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন ।
ওদিকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে যখন ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তত্ত্বজ্ঞান দেন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,
দিব্যং দদামি তে চক্ষুঃ পশ্য মে যোগমৈশ্বরম ।।
(গীতা –
১১/৮)
হে
অর্জুন তোমার এই দুই চোখ মায়ার বস্তুসকলকে দেখার জন্য দেওয়া হয়েছে । এই নেত্রের
দ্বারা তুমি আমায় দেখতে পারবে না । তোমার এই চর্মচক্ষু আমাকে দেখতে অসমর্থ
। এই দুই চোখ দিয়ে কেবল ভৌতিক জগতকেই দেখা যেতে পারে । এইজন্য তোমার দিব্য নেত্র
খুলে দিচ্ছি।
যখন অর্জুন বলিলেন কলিযুগে
মানুষ কিভাবে এই জ্ঞান পাবেন, তখন শ্রী কৃষ্ণ বলেন
তদ্বিদ্ধি প্রনিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া ।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্বদর্শিনং ।
(গীতা – ৪/৩৪)
হে অর্জুন যিনি পরমাত্মাকে তত্ত্ব থেকে
জানেন এমন কোনও জ্ঞানী পুরুষ অর্থাৎ সদগুরুর শ্মরনে গিয়ে তাঁকে দণ্ডবৎ প্রণাম করে
তারপর ছল কপটতা মুক্ত হয়ে পরমাত্মার সম্পর্কে প্রশ্ন করো, তৎপশ্চাৎ তার চরণের সেবা
কর এবং সেই জ্ঞানকে জানার চেষ্টা করো । যখন সদগুরু জ্ঞান দীক্ষা দেবেন ঠিক সেই সময়
তোমায় প্রভুর তত্ত্ব স্বরূপের দর্শন করাবেন ।

No comments:
Post a Comment